রমজান উপলক্ষে বিদেশে মূল্যছাড়ের এবং বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিযোগিতা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৯ ১০:০১:০০ অপরাহ্ণ
Price
আরব আমিরাতের একটি দোকান যেখানে মূল্যছাড় চলছে (বামে), (ডানে) আমাদের স্থানীয় বাজারের প্রতিকী ছবি।

পবিত্র মাহে রজমান সমাগত। আর মাত্র কয়েক দিন পরই শুরু হবে সিয়াম সাধনার মাস। সারা পৃথিবী জুড়ে অভিন্ন নিয়মে পালন করা হবে রোজা। মাহে রমজান উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা একটু আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এবং এই নিয়ম সারা বিশ্বেই দেখা যায়। রোজার মাসে পরিশ্রম কমিয়ে দেন অনেকেই।

পত্রিকার খবরে দেখলাম, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আরব আমিরাতের বাজারে শুরু হয়ে নিত্যপণ্যের মূল্যছাড়ের প্রতিযোগিতা। ৫০শতাংশের বেশি ছাড় দেয়া হয়েছে কিছু কিছু পণ্যে। এসব মূল্যছাড়ের পণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল থেকে শুরু করে তেল, ডাল, চিনি, জুস ও আরো বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য।

দেশটির অধিকাংশ বড় বড় মার্কেট, সুপারশপ, খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে লাগানো হয়েছে বিশেষ মূল্যছাড় সম্পর্কিত নানা রকম পোস্টার। এছাড়া কেউ যাতে কোনো পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে তা খতিয়ে দেখতেও নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে দেশটিতে।

পবিত্র মাহে উপলক্ষ্যে আরব আমিরাতের পণ্যের মূল্যছাড়ের বিপরীতে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিভঙ্গি রীতিমত বিস্ময়ে শিহরিত হওয়ার মতো। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় থাকেন রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে কয়েক গুণ মুনাফার আশায়। তাদের সে আশা পূরণও হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ সকল দুর্নীতিবাজ কালোবাজারীরা ঠিকই সংশ্লিষ্ট মহলকে ম্যানেজ করে কয়েক গুণ মুনাফা করে থাকে।

অন্যান্য বারের মতো এবারও ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুদ করছে, দাম বাড়ানোর কৌশল নির্ণয় করছে; অন্যদিকে পণ্যের মজুদ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি দেশের প্রতিটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সকল জেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন রমজানের বাজার মনিটরিং করার জন্য।

অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, রমজান শুরু হলে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ আর দৃশ্যমান হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে মিডিয়ার সামনে হয়ত দু’একটি ভেজাল বিরোধী অভিযান চলবে, কিছু জরিমানা করবে, আর পরক্ষণেই দেখা যাবে পুরনো চিত্র। ব্যবসায়ীরা ঠিকই তাদের ইচ্ছেমত বাড়িয়ে দেবে পণ্যের দাম, দুর্ভোগে পড়বে সাধারণ মানুষ, নাভিশ্বাস ওঠবে জনজীবনে। এছাড়া শাসক দলের কিছু ভেজাল নেতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে কালোবাজারীরাও হয়ে ওঠবে আরও বেশি বেপরোয়া।

আইন করে আমাদের দেশের মানুষকে অন্যায় করা থেকে বিরত রাখা গেছে তা জোর দিয়ে বলা যাবে না। তবুও আইন হয়, আইনের প্রয়োগ হয়, শাস্তিও হয়। তারপরও তো বন্ধ হয় না বা হবে না পবিত্র রমজান মাসে জনভোগান্তি। মাহে রমজান যে শিক্ষার কথা বলা আছে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থে তার শিক্ষা একজন মুসলমান হিসেবে নিতে না পারলে, মানুষের অন্তরাত্মা বা বোধের জায়গা পরিশ্রদ্ধ পবিত্র করতে না পারলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন কখনোই হবে না।

আগামী রমজানে প্রতিটি মুসলমান সত্যিকারের মুসলমান হিসেবে রমজানের মর্মার্থ ও শিক্ষা নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত জীবন ও সমাজ গড়ে তুলবে, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করে রোজাদারকে কষ্ট দেয়ার মানসিকতা পরিহার করবে- সেই প্রার্থনাই করছি।

আরও পড়ুন: অশান্তির অনলে শান্তির পৃথিবী

সংবাদটি নিজে পড়ুন, অন্যকে জানাতে শেয়ার করুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়