শুদ্ধতায় মঙ্গল শোভাযাত্রা!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৯ ১০:৩০:৩১ পূর্বাহ্ণ
Niru apa

নূরুন্নাহার নীরু:
পহেলা বৈশাখের উৎপত্তি ও মঙ্গল শোভাযাত্রা সম্পর্কে বিভিন্ন বই, পত্রপত্রিকা উইকিপিডিয়া পড়ে আমি যতটুকু জেনেছি তা হচ্ছেঃ খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে মোঘল শাসক সম্রাট আকবর বাংলা সন গণনা, বাংলামাসের নামকরণ, বাংলাবারের নামকরণ সহ সম্পূর্ণ বাংলার একটি সনের অস্তিত্ব তৈরী করার জন্য দায়িত্ব দেন কবি ও জ্যোতিশবিদ ইরানী সভাষদ ফতুল্লাহ সিরাজীকে , যার নামানুসারে নারায়নগঞ্জের একটি জায়গার নাম ফতুল্লাহ হয়ে ইতিহাস স্বীকৃত হয়ে আছে৷

বলাই বাহুল্য তৎকালীন ভারতবর্ষের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলা ভাষার চর্চা ও সমৃদ্ধি বিকাশের জন্য ভারতবর্ষের মুসলিম শাসকরা অনেক কালজয়ী কাজ করে গেছেন তারমধ্যে বাংলাসনের উৎপত্তি অন্যতম৷ তারই ধারাবাহিকতায় সম্রাট আকবর কতৃক ন্যাস্ত দায়িত্ব পালনে কবি ফতুল্লাহ সিরাজী দীর্ঘ তিনবছর গবেষণা করে বাংলা সন, মাস, সপ্তাহে সাতদিনের নামকরণ এবং পঞ্জিকা তৈরী করেন৷

নীচে বাংলা মাসের ও দিনের নাম দেয়া হলোঃ ( প্রতিটি মাসের নাম নক্ষত্রের নাম থেকে নেয়া হয় ,যেমনঃ) নক্ষত্রের নাম~~~~~ মাসের নাম ১|বিশাখা~~বৈশাখ
২|জৈষ্ঠ্যা~~জৈষ্ঠ্য
৩| আষাঢ়া~~আষাঢ়
৪|শ্রবণা~~~শ্রাবণ
৫|ভাদ্রপাদ~~ভাদ্র
৬|অশ্বিনী~~আশ্বিন
৭| কৃত্তিকা~~কার্তিক
৮|আঘন~~~অগ্রহায়ন
৯|পুষ্যা~~~~পৌষ
১০| মাঘা ~~মাঘ
১১|ফাল্গুনী ~ ফাল্গুন
১২|চিত্রা~~~চৈত্র/ চৌত্র

এভাবে গ্রহের নামানুসারে হয়েছে সাতদিনের নাম৷ উল্লেখ্য যে, আকাশমন্ডলীর বস্তুসমূহকে জৈবজ্ঞানে না ভেবে ভারতীয়রা পাঁচটি গ্রহ শনাক্ত করতে সমর্থ হয় এমনকি তৎকালে চাঁদ,সূর্য কেও গ্রহ ভেবে নামকরণ হয়েছে যথাক্রমে- রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ,শনি৷ (মনে রাখতে হবে ইংরেজী দিনের নাম গ্রহের নামানুসারে নয়৷) সে যাই হোক এখন বাংলা সনের প্রবর্তন করতে সুবিধানুযায়ী বছরের ১ম মাসটি তথা ১ম দিনটিকেই ধরা হয়৷ সে অনুযায়ী খাজনা আদায়ের জন্য চলে একটা উৎসব মুখর পরিবেশ৷ শুরু হয় রাজ প্রাসাদের চত্বরে প্রজাদের আগমন৷ এ উপলক্ষ্যে কুশলাদি বিনিময়, মন্ডামিঠাই বিতরণ,উপঢৌকন আদান-প্রদান সহ নানা সামাজিকতা৷ ওই সামাজিকতাকে মাথায় রেখে শুরু হয় ব্যবসায়িক ভাবনা ফলে গড়ে উঠে দোকানপাঠ, হাটবাজার, বিকিকিনি৷ এখানে পিঠাপুলি, মুড়কিমুড়ি সহ তৎকালীন ঐতিহ্যবাহী খাবারও চালু ছিল৷

তবে ছিল না পান্তা বা ইলিশ খাওয়ার হিড়িক৷ এমন কি মঙ্গলশোভাযাত্রা বলেও কিছু ছিলনা৷ সবই কালের পরিক্রমায় উদ্ভাবিত৷ আমাদের দেশে এটির উদ্ভভ একবিংশ শতাব্দী থেকে৷মূলতঃ বর্ষবরণ হিসেবেই আমরা এটিকে নিয়েছি বলেই এত আয়োজন৷ প্রত্যেক জাতিরই নববর্ষ আছে৷ যেমন, ইংরেজদের’হ্যাপীনিউ ইয়ার’ ,আরবদের ‘নওরোজ’ ইত্যাদিউৎসব৷

আমরা জানি, কোরানহাদীসের ভাষায় নির্মল আনন্দে কোনো দোষ নেই৷ সুতরাং, মুসলিম হিসেবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আনন্দ-উৎসব করতে গিয়ে কোনো বেদাত বা শিরর্কে জড়িয়ে না পড়ি৷ কিন্তু প্রকৃতঃই কি আমরা পারছি শের্কবেদাত বিচ্ছিন্ন পরিবেশে থাকতে? বরং মুসলিম জনগোষ্ঠী হয়েও কোরআন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারনে আমরাই যেন এসব নিষিদ্ধকাজে অতিউৎসাহী হয়ে উঠছি৷

বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা ‘ নামের এই আনুষঙ্গিকতা এতে আরো নতুন মাত্রা যোগ করেছে যার ব্যাখ্যা করতে গেলে পাওয়া যাবে এর অন্তঃসার শূন্যতা ৷যেমনঃ ১| এই মঙ্গল শোভাযাত্রার উৎপত্তি হচ্ছে ১৯৮৯ সালে৷ অথচ বলা হয় এটি হাজার বছরের ঐতিহ্য যার কোনো প্রমান নেই৷ ২| বলা হয় এর পেছনেএকটি রাজনৈতিক প্রেক্ষিত নিহিত৷ অর্থাৎ তৎকালীন স্বৈরাচার সরকারের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির মূলে কুঠারাঘাত৷ কিন্তু প্রশ্ন জাগে- এই অযুহাতের আড়ালে মূল উদ্দেশ্য যেন বিশেষ কোন ধর্মীয় বিশ্বাসের মূলেই কুঠারাঘাত! নতুবা এখনো কি চলছে ইসলামের নামে স্বৈরাচারিতা? ৩| যেসব জীবজন্তু পশুপাখীর প্রতিকৃতি বহন করে শুভাশুভের আরাধনা করা হয় তা হাস্যকর কেননা যে মানবজাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব বানানো হলো এমন কি শুধু বানানোই নয় তাদের চলার পাথেয় হিসেবে সঠিক পথনির্দেশিকা ( আলকোরআন) দেয়া হলো তারা কিনা সমাজের মঙ্গল কামনা করছে ঐসব ইতর প্রানীর কাছে৷ এখানেও জ্ঞানধ্যানের নিকৃষ্টতাই প্রমানিত ৷

পরিশেষে বলতে হয় প্রতি বছর এই মঙ্গল শোভাযাত্রার একটা প্রাতিপাদ্য বিষয় থাকে আর সেটিও নির্ধারণ করে আমাদের অনুজ চারুকলার ছাত্ররা৷ আমি বলবো ওদের শৈল্পিক প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর এটি একটি মাধ্যম বিশেষ তাই তারা এত উৎসাহী৷ সেই সাথে ধর্ম সম্পর্কে ঔদাসীন্যতা৷ সুতরাং এসবক্ষেত্র বিবেচনা করলে বলা যায় মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে এই উৎসব মুখরতা গোটা জাতির জন্য অন্তঃসারশূন্য৷ কারণঃ যে জাতির নীতিনৈতিকতায় এখনো গড়েওঠেনি কোনো শ্লীলতা, সভ্যতা, ভদ্রতা, ভব্যতা, যেখানে ০২-৬০ বছরের একটি মহিলারও নেই নিরাপত্তা, নেই সমাজের পরতে পরতে শোষণ মুক্ততা তারা নাকি শুদ্ধতা চায় পেঁচা,ইঁদুর,বাঘের মত হিংস্র ইত্যাদি প্রানীর কাছে ! এটা কি বাতুলতা বা জাতির বালখিল্যতা নয়? মঙ্গল প্রদানের মালিক স্বয়ং আল্লাহরাব্বুলআলামিন৷ জাতির কাছে আহবান আসুন আমরা মঙ্গল পেতে হলে তাঁর মুখি হই, তাঁরই কাছে ধর্ণা দেই৷সেটিই হবে সত্যিকারের শুদ্ধতা।

আরও পড়ুন: অপরাজিতা (মিষ্টি প্রেমের গল্প)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়