শ্রীলঙ্কায় ৩৬ ঘণ্টার কারফিউ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, এপ্রিল ৩, ২০২২ ১০:২৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
শ্রীলংকায় তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের পটভূমিতে যে সহিংস বিক্ষোভ চলছে তা সামাল দিতে সরকার দেশজুড়ে ৩৬ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করেছে। রাজধানী কলম্বোতে গত বৃহস্পতিবার থেকেই সান্ধ্য আইন জারি আছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সামরিক বাহিনী তলব করেছেন।

দু’দিন আগে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বাসভবনের আশেপাশে গড়িতে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক সহিংসতার পর দেশটিতে সর্বশেষ এসব ব্যবস্থা নেওয়া হলো যার প্রাথমিক উদ্দেশ্য সহিংস প্রতিবাদ বন্ধ করা। এর পর থেকেই দেশটিতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহভাজন যে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

এশিয়া বিষয়ক বিবিসির সম্পাদক আয়েশা পেরেরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসা যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন তাতে অনেকেই স্তম্ভিত হয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, শ্রীলঙ্কার আইনে “ব্যতিক্রমধর্মী হুমকি, বিপদ অথবা বিপর্যয়ের মধ্যে” জরুরি অবস্থা জারি করার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালে ইস্টার সানডেতে গির্জায় বোমা হামলার পর জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল।

এই আইনে কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই লোকজনকে আটক করা যায়। এছাড়াও লোকজনের চলাচল ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এর ফলে লোকজনের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে সরকার এখন হয়তো প্রতিবাদকারীদের ওপর আরো বেশি মারমুখী হয়ে উঠতে পারে।

এই আইন জারির বিরুদ্ধে আদালতে কোনো চ্যালেঞ্জ করা যাবে না, যদিও এটি ঘোষণার ১৪ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে অনুমোদন করাতে হবে।সংসদে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এটি পাস করাতে তেমন অসুবিধা হবে না।

কী কারণে এই পরিস্থিতি
শ্রীলঙ্কা এখন বড় ধরনের এক অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে।অর্থনীতিবিদরা এর জন্য কোভিড মহামারির কারণে পর্যটনে ধ্বস এবং বৈদেশিক মুদ্রার অভাবকে দায়ী করছেন যা দিয়ে জ্বালানি আমদানির মূল্য পরিশোধ করা হয়।

এর ফলে দেশটিতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময়েই এখন বিদ্যুৎ থাকে না। জ্বালানি ছাড়াও খাদ্য এবং ওষুধপত্রেরও অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে জনগণের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা থেকে ঘুরে এসেছেন। তিনি  বলেছেন, এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি।

“এর পেছনে একটা রাজনৈতিক সঙ্কটও রয়েছে। ২০১৯ সালের আগ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ ছিল। তখন থেকে অধঃপতন হয়ে তারা এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।”

তিনি বলেন, দেশটির সর্বস্তরের মানুষের ওপর এই সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে।”অনেক পরিবার যারা কোভিডের সময় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, যারা ছোট খাটো ব্যবসা করছে, হোম ডেলিভারির মতো সার্ভিস দিচ্ছে- এই জনগোষ্ঠী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণিও কিন্তু এই আন্দোলনে নেমে এসেছে,” বলেন ড. রায়হান।

সহিংস বিক্ষোভ
প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসার বাসভবনের সামনে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হয়েছিল। তবে প্রতিবাদকারীরা বলছেন, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপসহ জল-কামান ব্যবহার করলে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।

এসময় প্রতিবাদকারীদের পুলিশ মারধর করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়ে মারে।

সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত দুই ডজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা।

শুক্রবার ৫৩ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে পাঁচজন ফটো-সাংবাদিককে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

সরকার বলছে, তারা এই অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে।পুলিশের এই দমন-পীড়ন সত্ত্বেও দেশের অন্যান্য জায়গাতেও প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

রাজধানীতে হওয়া বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।সংবাদদাতারা বলছেন, গোটাবায় রাজাপাকসা ২০১৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করলেও প্রতিবাদ বিক্ষোভ থেকে বোঝা যায় যে মাত্র তিন বছরে তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে।

আরো পড়ুন : কিয়েভ পুনর্দখলের দাবি ইউক্রেনের

জনপ্রিয়