সরকার স্বাধীনতা পদকেও ‘আত্মীয়করণ’ করেছে : ফখরুল

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৪, ২০২২ ৭:৫০:৩২ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার স্বাধীনতা পদক প্রদানেও সরকার ‘আত্মীয়করণ’ করেছে।

জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার দলের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেখেন এতো ব্যর্থ, এতো অযোগ্য তারা (সরকার) যে স্বাধীনতার পদক যেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন, সেই স্বাধীনতার পদক নিয়ে তারা দুর্নীতি করেছে। যেখানে আমির হামজা নামে একজনকে তারা পদক দিয়েছে। পরে আবার বাতিল করে দিয়ে, নতুন করে তারা তদন্ত করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু তাকেই কেনো? আরও যাদেরকে দিয়েছেন তাদেরটা তদন্ত করুন, তারা কারা? এদের বেশির ভাগই মন্ত্রীদের আত্মীয়-স্বজন অথবা তারা প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন, তাদেরকেই এই পদক দেওয়া হয়েছে এবার।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, চতুর্দিকে তারা (সরকার) লুটপাট, দুর্নীতি এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে যে, এখন এদেশকে রক্ষা করতে হলে একমাত্র এদেরকে সরানো ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। আজকে এরা গণতন্ত্রের সর্বনাশ করেছে। লাখ লাখ মানুষকে আজকে এরা ঘরছাড়া করেছে। আমাদের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করেছে, ৬শ’র অধিক মানুষকে তারা গুম করে দিয়েছে। সহস্র মানুষকে তারা হত্যা করেছে, এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

মির্জা ফখরুল বলেন, সমস্ত পেশাজীবীদের কাছে আমরা আহ্বান জানাব, আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে, এই ফ্যাসিবাদী ভয়াবহ সরকারকে সরিয়ে আমরা সত্যিকার অর্থে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সরকার স্বাধীনতাবিরোধী সরকার। জনগণের বিরুদ্ধের সরকার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করছি। আর তারা কিভাবে অর্থ উপার্জন করবে, কিভাবে লুটপাট করবে, কিভাবে বিদেশে অর্থ পাচার করবে, সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করছে।

দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে দারিদ্র্যের হার দুই পারসেন্ট বেড়ে গেছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা একদম কমে গেছে। এটা বাস্তবতা। দ্রব্যমূল্য এমনভাবে বেড়েছে, ইনফ্লুয়েশন এমনভাবে বেড়েছে যে, মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আমাদের ওবায়দুল কাদের সাহেবের চব্বিশ ঘণ্টা ঘুম হয়। তাঁর রাতেও ঘুম হয়, সকালেও ঘুম হয়। তিনি সারাক্ষণ বিএনপির দুঃস্বপ্ন দেখেন এবং সমানে কথা বলতে থাকেন। এখানেই বুঝা যায় যে, বিএনপি শুধু আছে না, বিএনপি প্রবলভাবে আছে। তাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি নিয়ে সরকার জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করছে বলেও অভিযোগ করেন অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক মির্জা ফখরুল।

চিকিৎসা ও সেবা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ও সদস্য ডা. মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর মহাসচিব অধ্যাপক আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. আব্দুস সেলিম, ডা. মোসাদ্দেক হোসেন ডাবলু, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. শহীদুল আলম প্রমুখ চিকিৎসকরা বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে চিকিৎসা ও সেবা কমিটির উদ্যোগে ‘স্বনির্ভর দেশ গঠনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান’শীর্ষক এই আলোচনা সভায় ৭জন প্রখ্যাত চিকিৎসক মুক্তিযোদ্ধাকে তাদের অবদানের জন্য ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

এরা হলেন অধ্যাপক ফরিদুল হুদা, অধ্যাপক মোবিন খান, অধ্যাপক শামসুল ইসলাম, ডা. সাহাদাত হোসেন, অধ্যাপক মোমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক আবদুল হক। এছাড়া বিএনপির খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আবদুস সালামকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আরো পড়ুন : খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ল

জনপ্রিয়