সিকিউরিটি অ্যালার্টের তথ্য আমাদের জানানো আমেরিকার দায়িত্ব: শেখ হাসিনা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, এপ্রিল ৬, ২০১৯ ৫:১৩:০৮ পূর্বাহ্ণ

বাসস:
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমেরিকা একটা সিকিউরিটি অ্যালার্ট দিয়েছে। কী কারণে অ্যালার্টটা দিল তা তারা আমাদের কাছে বলেনি, ব্যাখ্যাও করেনি। আমরা জানতে চেয়েছি তাদের কাছে কী তথ্য আছে। যদি কোনো তথ্য থাকে তাদের কাছে, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, তবে তাদের একটা দায়িত্ব আছে আমাদের অন্তত সে বিষয়টা জানানো। যাতে আমরা ওই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারি।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীতে সাম্প্রতিক আগুনের ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হঠাৎ আগুন লেগেছে। আগুন সারা দুনিয়াতেই লাগে। আমেরিকাতে একটা হাসপাতালে আগুন লেগে সবই পুড়ে শেষ। লন্ডনে আগুন লেগে ৭০ জন মারা গেল। আরো যে কত মারা গেছে তার হিসাবও হয় না। উদ্ধারকাজও আমাদের মতো এত দিন কেউ চালায় না। তাহলে এই অ্যালার্টটা তারা কেন দিল, সেটা আমাদের জানার বিষয়। আগামীতে কোনো কিছু ঘটতে যাচ্ছে, এটা যদি তারা জানে, তবে তাদের দায়িত্ব এটা আমাদের জানানো।’

দেশে চৈত্র-বৈশাখ মাসে আগুন লাগার একটা প্রবণতা রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আগুন লাগল বহুতল ভবনে। এর পরপরই মার্কেটে, অনেক জায়গায়। তার পরও আমাদের ফায়ার সার্ভিস দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে একজন ফায়ারকর্মী খুব আহত হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য আমরা বিদেশে পাঠাচ্ছি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। নিহতদের পরিবারের খোঁজ-খবর রাখছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস যখন অগ্নিনির্বাপণে যায়, আমাদের কিছু লোক খামোখা উত্তেজিত হয়ে। (তারা) ফায়ার সার্ভিসের লোকদের মারধর করে একটা গাড়ি পর্যন্ত ভেঙে দিয়েছে। একেকটা গাড়ি কিনতে নয়-দশ কোটি টাকা লাগে। না মেরে তারা যদি একেক বালতি পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করত বা উদ্ধারকাজ করত। তবে একটা ছেলে উদ্ধার করতে গিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আর (ঘটনাস্থলে) দুনিয়ার মানুষ গিয়ে ভিড় করে। সেলফি তোলে। তাদের কারণে ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকর্মীরা যেতে পারে না। সেলফি না তুলে পানি নিয়ে আগুন নেভানো বা উদ্ধারকাজ করুক। আমি ধন্যবাদ জানাই, আশপাশের ইউনিভার্সিটিগুলোর শিক্ষার্থীদের, যারা এসেছিল সাহায্য করতে। সাধারণ মানুষের মধ্যে যাদের দায়িত্ববোধ আছে, তারা দায়িত্ব পালন করেছে। আর মিডিয়া যখন এটা (আগুনের ঘটনা) দেখায়, অনেক মানুষ আকৃষ্ট হয়। তারা আরো সেখানে ছুটে যেতে চায়। কাজেই এখানে মিডিয়ারও একটা ভূমিকা আছে। আরেকটি হলো পানির সমস্যা।’

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালে আগুনসন্ত্রাস, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, গাছ কেটে ফেলা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ফেলা। …৫০০-এর কাছাকাছি মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এ হলো বিএনপির অপকর্ম। আগুনসন্ত্রাসে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন তারা চিৎকার করছে, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে! একটা মামলাও মিথ্যা নয়।’

আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঝুঁকে প্রায় দুই কোটি শিশু!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়