সুন্দরবন ও উপকুলীয় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ব্যবস্থা নেবে সরকার: শাহাব উদ্দিন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯ ৬:৩৮:৩২ অপরাহ্ণ
Sahabuddin
পরিবেশ বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন

মাসুদ রানা, মোংলা প্রতিনিধি:
পরিবেশ বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেছেন, সুন্দরবন ও উপকুলীয় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ব্যবস্থা নেবে সরকার। মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের সভা কক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এমন মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন নির্ষিদ্ধ খাল ও নদ নদীতে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মৎস্য আহরনকারী আর তাদের সহযোগী সরকারী সকল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপকুলীয় এলাকার মানুষদের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে খনন করা হবে পুকুর আর বিতরন করা হবে পানির ট্যাংক। একই সাথে নদী ভাংগন এলাকা মোংলার কাইনমারী হইতে জয়মনির ঘোল পর্যন্ত নদীর কুলে বেড়িবাধ নিমান করা হবে বলে আসাশ্বস্ত করেন এ মন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে উপকুলীয় অঞ্চলের ক্ষতিকর বিভিন্ন দিক ও বিষয়ের উপর আলোচনায় মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর ফারুক হাসান বলেন, মোংলা বন্দরের শিল্প অঞ্চলে সবকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে নজরদারী না করার কারনে পরিবেশ দুষন করছে তারা। আর এ দুষনের কারনে বসবাসের অনউপযোগী হয়ে পড়ছে বন্দরের আবাসিক এলাকায়। প্রতিনিয়ত দুষনের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এ অঞ্চলেরর সকল মানুষ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর সালমা খাতুন বলেন, মানব সৃষ্ট নানা কারনে ক্ষতির মুখে পড়ছে সুন্দরবন। হারিয়ে যাচ্ছে বনের বনজ সম্পদের জীব জন্ত্রু আর কয়েক প্রকারের মৎস্য সম্পদ। আর ওইসব ক্ষতির হাত থেকে বন রক্ষায় বন্ধ করতে হবে বিষ ও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে সুন্দরবনে মৎস্য আহরন। তদারকির জন্য গঠন করতে হবে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেক প্রফেসর মাহবুব মোর্শেদ জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতী হচ্ছে কিনা তা আমরা সহজে বুঝতে পারি। যেমন বর্তমানে শকুন হারিয়ে যাচ্ছে। বিষ যুক্ত দুষিত পানি পান করে মাছ মরে যাচ্ছে আর লোনা পানি ডুকে ক্ষতি হচ্ছে সুন্দরবনে। এ জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের দাবি করেন তিনি।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের সচিব আবদুলালাহ আল মোহসিন চৌধুরী বলেন, নদী ভাংগন ও সুপেয় পানির সমস্যা ৩০ বছরেও দুর হয়নি উপকুলীয় এলাকায়। সুন্দরবনে গাছের আগামরা রোগে আক্রান্তের কারন নির্নয়ে একটি কমিটি গঠন করার কথা জানান সচিব।

এ সময় প্রধান বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন আহাম্মদ বলেন,বাঘের সংখ্যা নির্নয় করতে রির্চার্জ করা দরকার। তিনি আরো বলেন, বনে একটি বাঘের খাবারের জন্য প্রতি বছর ৩০০ হরিনের প্রয়োজন। সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ১০৬ টি। বাঘ কমছে এমন ধারনা করা ঠিক নয়। কারন বাঘ গননার আগের পরিসংখ্যান ছিলো ভুল।

সভায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার মিনারুল হোসেন বলেন, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অধিনে ১২টি ষ্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে ৮টিই সুন্দরবনে। বন ও বনজ সম্পদ রক্ষায় কোস্টগার্ড তাদের দায়িত্ব পালন করে চলছে। জনবল আর জলযান বৃদ্ধির সাথে সাথে দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিবে সংস্থাটি।

সভায় বিশেষ অতিথি পরিবেশ বন ও জলবায়ু উপমন্ত্রী হাব্বিুন নাহার বলেন, দীর্ঘদিন উপকুলীয় অঞ্চল বঞ্চিত ছিলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফান্ড থেকে। তাই এসব এলাকার মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ ওইসব মানুষদের সকল সমস্যা দুরি করনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সকলের সহযোগীতা চান তিনি।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট’র ব্যাবস্থাপনা পরিচালক দিপক কান্তি পাল, জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুল কাদির, জেলা প্রসাশক তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, সুন্দরবন খুলনা সার্কেল (সিএফ) আমির হোসেন চেীধুরী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার,ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস কামরুন নাহার হাইসহ বন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রসাশনের উর্ধতন কর্মকর্তা বৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ

জনপ্রিয়