শিরোনাম

শান্তিময় জীবন ও সমাজ গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯ ১২:০১:২২ অপরাহ্ণ
ছবি: সংগৃহীত

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি:
বর্তমান আধুনিক বিশ্বে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যেমন আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, সেই সাথে ধর্মীয় অনুশাসন পালন এবং মেনে চলার শিক্ষাও আমাদের অর্জন করতে হবে। শান্তিময় দেশ ও সমাজ গঠনের জন্য উভয় শিক্ষারই গুরুত্ব অপরিসীম। চলমান বার্তার পাঠকদের জন্য আমাদের আজকের আয়োজন ‘শান্তিময় জীবন ও সমাজ গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব’।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:
আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলা, ইংরেজী, অংক যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়, সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে ইসলাম ধর্ম পড়ানো হয় না। আর ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে তো ধর্ম শিক্ষা নাই বললেই চলে। আবার মাদ্রাসা ভিত্তিক যে ইসলামী শিক্ষা দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাশের উপর গুরুত্ব দেয়া হয় বেশি। ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়ের যে সুক্ষতা রয়েছে তা থেকে বঞ্চিত করা হয় শিক্ষার্থীদের। যে কারণে দেখা যায় অনেক হাফেজ, মুফতি নিজেদেরকে ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছেন। সনদপ্রাপ্ত মুফতি বা আলেমদের মাঝে এক ধরনের অহমিকা ভাব লক্ষ্য করা যায়। মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রদের দেখা যায় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে। আর এসব ঘটছে ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়ে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে।

ইসলাম কি বলে?
জ্ঞান অর্জন ইসলাম ধর্মীয় দৃষ্টিতে ফরজ অর্থাৎ অবশ্য করণীয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, ‘যাকে হিকমত তথা দ্বীনের জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তাকে দেয়া হয়েছে বিপুল কল্যাণ ও সমৃদ্ধি’ (আল-বাকারাহ : ২৬)। কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাঁদের জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাঁদের উচ্চমর্যাদা দিবেন। আর যা কিছু তোমরা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে পূর্ণ অবহিত’ (মুজাদালাহ : ১১)।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত ও প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে বিদ্যার্জনে ব্যাপৃত থাকে এবং সে অবস্থায় তার মৃত্যু সমাগত হয়, জান্নাতে তার এবং নবীদের মধ্যে কেবল একটি ধাপই ব্যবধান থাকবে’ (দারীমী)।

করণীয়:
আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত জ্ঞানের প্রকারভেদ আছে। প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জন করা হয়, তা সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় জীবনে একান্ত অপরিহার্য। তাছাড়া কর্মজীবনে এই শিক্ষা তথা সার্টিফিকেটের কোন বিকল্প নেই। সাথে সাথে আমাদের কর্তব্য ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করা। ধর্মের মূল ও মৌলিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা। আর এই জ্ঞান অর্জন যে কোন শিক্ষার পাশাপাশি করা সম্ভব। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার জন্য যদি দৈনিক ব্যয় হয় ছয় থেকে আট ঘন্টা, সেক্ষেত্রে আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা সময় স্বীয় ধর্মের জন্য ব্যয় করা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়।

বর্তমানে বাজারে অনেক কোরআনের তাফসির পাওয়া যায়। দৈনিক নিয়মিতভাবে কিছুটা সময় যদি আমরা “ধর্মীয় সংবিধান” কোরআনের তাফসির পড়ার অভ্যাস করি তাহলে মনে আর কোন ভ্রান্ত ধারণা আসবে না। এছাড়া সহী সিত্তার ছয়টি হাদিস গ্রন্থ পড়লে ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়ের কোন কিছুই অজানা থাকবে না।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয় পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীদের বিপদগামীতার প্রবণতা হ্রাস পাবে। মাদ্রাসা ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামের মৌলিক বিষয়ের উপর আরও বেশি জোর দেয়া প্রয়োজন। আর তা দিতে পারলে ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের তৎপরতা বন্ধ হবে। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের কি উচিৎ না শেষ আসমানী কিতাব, আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থের চর্চা করা আর এর আলোকে জীবন গড়া? উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তকে ইসলামের কোন বিষয়ই অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। মাধ্যমিকে যা করা হয়েছে তাও নামে মাত্র। আজকে যদি দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা যায়, শিক্ষার্থীর সিলেবাসে অন্যান্য বিষয়ের সাথে ধর্মীয় মূল্যবোধ সংক্রান্ত বিষয়ের উপর জোর দেয়া যায়, তাহলে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে সেই শিক্ষার্থী জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, অন্যায় ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে কখনোই জড়িয়ে পরবে না। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।

(আগামী পর্বে পড়ুন ‘কর্মজীবনে ইসলাম’। চোখ রাখুন চলমান বার্তায়)

আরও পড়ুন>>

পারিবারিক জীবনে ইসলাম

সামাজিক জীবনে ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ

জনপ্রিয়