শিরোনাম

সামাজিক জীবনে ইসলাম

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯ ১২:৪৯:২০ অপরাহ্ণ
Islam

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি:
ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার মধ্যেই আছে সত্যিকারের কল্যাণ। শান্তিময় দেশ ও সমাজ গঠনের জন্য ইসলামী অনুশাসনের বিকল্প নেই। চলমান বার্তার পাঠকদের জন্য আমাদের আজকের আয়োজ সামাজিক জীবনে ইসলাম।

সামাজিক জীবন:
আমাদের সমাজ জীবনে ইসলামী সংস্কৃতির চর্চা ক্রমাগতভাবে লোপ পাচ্ছে । যে ইসলাম শুধু সমাজ নয় সারা বিশ্বময় শান্তির সুবাতাসে ভরিয়ে দিতে পারে, সেই ইসলামের অনুশাসন পরিপন্থী কাজ বৃদ্ধি পেয়েছে আমাদের সমাজে আশঙ্কাজনক হারে। ইসলামে যৌতুক নিয়ে বিয়ে করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও আজকে আমাদের সমাজে যৌতুক প্রথা এখন খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। এছাড়া তথাকথিত অভিজাত পরিবারের সন্তানদের বিয়ে অথবা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গান-বাজনার আয়োজন করা হয়। এমনকি থাকে বরের বন্ধুদের জন্য বিয়ার, মদের ব্যবস্থা যা শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আমাদের সমাজপতিরা যেখানে যুব সমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগ্রত করে তুলবে সেখানে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে নিজেরাই অন্যায় কর্মকান্ড করে যাচ্ছে অবলীলায়। আর তা সাধারণ জনগণ দেখেও কোন প্রতিকার করতে পারছে না। নেশার দ্রব্য দিয়ে সয়লাব আজ দেশের প্রতিটি অঞ্চল। বিপথগামী হচ্ছে যুব সমাজ। পর্দা না করার কারণে বাড়ছে ইভটিজিং এর ঘটনা। শ্লীলতাহানী ঘটছে অনেকের। ভাসমান পতিতা থেকে অভিজাত পাড়ায় গড়ে উঠেছে পতিতা পল্লী। এদের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে মরণব্যাথি এইচআইভি (এইডস)। যে কারণে অনেক পরিবার নি:স্ব¦ হয়ে গেছে, কারো বা ভেঙ্গেছে সংসার । মদ, জুয়ার আসর বসছে শহর, গ্রামে, গঞ্জে। আর এসব কর্মকান্ড সামাজিক ব্যাথি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের সর্বত্র। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ প্রবণতা, অশান্তির ডামাডোলে নিমজ্জিত হচ্ছে সমাজ।

ইসলাম কি বলে:
যৌতুক নিয়ে বিয়ে করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। অজ্ঞতার বশবর্তী হয়ে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে যদি কেউ যৌতুক নিয়ে বিয়ে করে তাহলে শরীয়ত অনুযায়ী সে বিয়ে হয় না। আর যদি বিয়েই না হয় সেক্ষেত্রে তাদের ‘দৈহিক মিলন’ ‘জেনা’র পর্যায়ে পড়ে যায়। কিয়ামতের দিন সে নি:সন্দেহে জেনাকারী ও ব্যাভিচারীর কাতারে দন্ডায়মান হবেন। আর যৌতুক নিয়ে বিয়ে করা দম্পতির ঔরশজাত সন্তানকে কি বলা যায় তা সহজেই অনুমেয়। বিয়ে কিংবা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গান-বাজনা, বিয়ার-মদ দিয়ে বন্ধুদের আপ্যায়ণ করা সম্পূর্ণ হারাম। আমাদের সমাজে প্রচলিত বউ ভাতের অনুষ্ঠান কোন মুসলমানদের অনুষ্ঠান না। হিন্দু রীতি অনুযায়ী বিয়ের পরের দিন শ্বশুরবাড়িতে নতুন বউ নিজ হাতে রান্না করে অতিথিদের আপ্যায়ন করান। আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় ‘বউয়ের হস্তমিশ্রিত ভাত’ অর্থাৎ ‘বউ ভাত’। ইসলামী শরীয়তে ‘অলিমা’র অস্থিত্ব থাকলেও বউ ভাতের কোন ভিত্তি নেই।

আল্লাহ বলেন, ‘আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল স. এর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তায়ালা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, সুকৌশলী।’ (সূরা আত-তউবা:৭১)।

নবী করীম সা. বলেন, হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, ‘সর্বাপেক্ষা বরকতময় হলো ওই বিবাহ, যা কম খরচে নির্বাহ করা হয়’ (বায়হাকি)। ‘মাসনূন বিবাহ সাদা সিধে ও অনাড়ম্বর হবে, যা অপচয়, অপব্যয়, বেপর্দা ও বিধর্মীয় সংস্কৃতি মুক্ত হবে এবং তাতে যৌতুকের শর্ত বা সামর্থের অধিক মহরানার শর্ত থাকবেনা। (তাবারানী আউসাত, হাদিস নং- ৩৬১২)।

কোন অবস্থায়ই অপচয় তথা অপব্যয় ইসলাম অনুমোদন করে না। পৃথিবীতে যত ধর্ম আছে তার মধ্যে একমাত্র ইসলাম ধর্মই নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। নারীদের জন্য পর্দা করা ফরজ করা হয়েছে। দেখা যায় রাস্তা ঘাটে যে সকল মেয়ে নিজেদের পর্দায় রেখেছেন তাদেরকে সবাই ভালো হিসেবেই জানে। আর বেপর্দায় যারা চলে, তাদের বেলায়ই ঘটে যত অনাকাংখিত ঘটনা। ইভটিজিং, এসিড সারফাইভার্স, ধর্ষণের মত জঘন্য ঘটনা বন্ধ করতে হলে মেয়েদের পর্দাশীলতার কোন বিকল্প নাই। আর যুবসমাজকে নৈতিক শিক্ষা দানের মাধ্যমে চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর এসব অপরাধের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী।

সমাজপতিরা বর্তমানে যেমন গণ্যমান্য ও শ্রদ্ধাভাজন হিসেবে বসবাস করছেন, নিজেদেরকে যদি ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমাজ পরিচালনায় অবদান রাখেন, তাহলে পরকালেও সম্মানপ্রাপ্ত হবেন। সমাজপতিরা ইচ্ছা করলেই সমাজ থেকে জুয়া, মদসহ অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ করতে পারেন। তাঁদের স্বদিচ্ছায়ই গড়ে উঠতে পারে শান্তির সমাজ। আর একমাত্র ইসলামী অনুশাসন মেনে চললে রক্ষা পাওয়া যায় মরণব্যাথি এইডসের কবল থেকে। এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সরকারের কঠোর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। বর্তমানে বিদেশী টিভি চ্যানেলগুলোর আজগুবি ও নৈতিকতা বিবর্জিত অনুষ্ঠানের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে এদেশের নারীদের। যার ফলে বাড়ছে পারিবারিক কলহ, অশান্তির কালো থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে পরিবারের শান্তি। সময় থাকতেই এসকল অপসংস্কৃতি বন্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন : পারিবারিক জীবনে ইসলাম

নবীর জীবন, আমাদের জন্য শিক্ষনীয় (১ম পর্ব)

নবীর জীবন, আমাদের জন্য শিক্ষনীয় (২য় পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ

জনপ্রিয়