শিরোনাম

গাজীপুর সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের ২ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, ডিসেম্বর ২১, ২০১৯ ৩:১৫:১৭ অপরাহ্ণ

এস এইচ সুমন, গাজীপুর,
গাজীপুর সিটি কর‌পোরেশনের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়া‌র্ডের দুই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে। কাউন্সিলরগণ হলেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ নাসির উদ্দিন মোল্লা ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দে‌লোয়ার হো‌সেন দুলাল। এলাকায় গুঞ্জণ র‌য়ে‌ছে ‌দে‌লোয়ার ‌হো‌সেন দুলাল বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানায়, কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লার নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পরিবহনে চাঁদাবাজি করে আসছে মোঃ আজম সানি ও তার সহযোগিরা। গাজীপুরের জয়‌দেবপুর থেকে সাভা‌রের নবীনগর পর্যন্ত পলাশ পরিবহন দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করে আসছে। বেশকিছু দিন ধরে ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠিত হয়ে পড়েছে পরিবহন মালিকরা। ওই কাউন্সিলরের বাহিনীরা পলাশ পরিবহনে অবৈধ ভাবে চাঁদা দাবি করে আসছে এবং প্রতিদিন গাড়ি প্রতি এক’শ টাকা চাঁদা না দিলে পলাশ পরিবহন চলতে দেয়া হবে না ব‌লে নানান ধর‌ণের হুম‌কি দি‌য়ে আস‌ছেন তারা। গাড়িতে যাত্রী উঠা-নামা করার সময় তা‌দের দাবিকৃত চাঁদার টাকার জন্যে এসে হাজির হয়। গত ৩রা ডিসেম্বর শিমুলতলী থেকে কোনাবাড়ির দেওয়ালীয়াবাড়ী আঞ্জুমান ফিলিং স্টেশনের কাছে এসে যাত্রী উঠা-নামা করা‌নোর সময় কাউ‌ন্সিলর নাসির উদ্দীন মোল্লার ছত্রছায় পা‌লিত সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য আজম সানি মোল্লা ও তার ৩-৪জন সহযোগিরা চাঁদার জন্য চাপাচাপি করে। এ সময় মহানগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ এসে চাঁদার টাকাসহ সানিকে আটক করে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় পলাশ পরিবহনের সুপারভাইজার আব্দুর রহমান গত ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টা‌ব্দে বাদি হয়ে ৪-জনকে আসামি করে কোনাবাড়ি মে‌ট্রো থানায় মামলা দায়ের করেন। যাহার নম্বর ৮-১২-১৯/৫ তা‌রিখ। এ মামলার আসামিরা হলো, গোপালগঞ্জ জেলার মোকছেদপুর থানার মো. আওয়াল মোল্লার ছেলে মোঃ আজম সানি মোল্লা (৩২), গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি থানাধীন রিফুজীপাড়া এলাকার মোঃ জাহিদ ইসলাম (৩০) ও একই এলাকার মোঃ জাকির হোসেন (৩০)। তাঁরা সবাই কাউন্সিলর নাসির মোল্লার অধী‌নে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও চাঁদাবাজি করতো।

অন্য দিকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। তিনি কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে এলাকায় চরম অশান্তি বিরাজ করছে। তাঁর দুই ছেলে পায়েল ও পলাশ এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তো‌লে। একের পর এক বেপোয়া হয়ে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। যখন যা ইচ্ছে তাই তাঁরা করে বেড়ায় তারা। তাঁর দুই ছেলে এলাকায় মাদকের ব্যবসাও করছে বলে জানায়। এর আগে তাঁর ছোট ছেলে পলাশ উত্তরা থানায় ইয়াবাসহ আটক হন এবং মাদকদ্রব্য আইনে মামলাও হয়। এলাকাবাসি জানায়, দুলাল নিজেকে সৎ ও নিষ্ঠাবান দাবি করলেও বাস্ত‌বে লেস মাত্র নেই।

গত ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টা‌ব্দে কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন দুলালকে হুকু‌মের আসামি করে ১০ জনের বিরু‌দ্ধে অটোরিকশার মালিক খোকন বাদি হয়ে কোনাবাড়ি মে‌ট্রো থানায় একটি চাঁদাবাজির দায়ে মামলা করেন। যাহার নম্বর ১৮-১২-১৯/১৪ তা‌রিখ। মামলার প্রধান আসামি আমবাগ পশ্চিমপাড়া এলাকার শুকুর আলী মিয়ার ছেলে মোঃ লাল মিয়া (৪০)কে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার অন্য আসামিরা হলো, বরিশাল জেলার উজিরপুর থানাধীন নারায়নপুর গ্রামের মোঃ হেমায়েত (৪৭) তাঁর ছেলে মোঃ শাহিন (২৪), মোঃ রবিন (৩৩), মোঃ রাজিব, মোঃ আলম, মোঃ কামরুল, মোঃ আনোয়ার, মোঃ হানিফ ও মোঃ আনোয়ার। তাঁরা সবাই পলাতক রয়েছে।

এজাহার সূত্রে আ‌রো জানায়, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা, ইজিবাইক ও মিশুক চালকদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি-ধাম‌কি দিয়ে নছের মার্কেট থেকে কোনাবাড়ি একতা টাওয়ার পর্যন্ত অটোরিক্সা চালাতে গেলে নিয়মতি সিটি কর্পোরেশন ও মালিক সমিতির নামে স্টিকার দিয়ে পাচ’শ করে টাকা চাঁদাবাজি করে আসছিলো। মাসিক চাঁদার টাকা না দিলে শারীরিক নির্যাতনসহ গাড়ীর চাবি কেড়ে নিয়ে কাউন্সিলর দুলালের অফিসে নিয়ে আটক রাখা হতো। এর আগে সিটির নামে ১৫ হাজার টাকা ক‌রে অটোচালকদের কাছ থেকে নিয়ে প্রশাসনের চাপে তা ফেরৎ দেন।

জানা যায়, কাউন্সিলরের পৃষ্ঠপোষাকতায় হেমায়েত ও তাঁর পুত্র শাহিন আমাবগ তেতুলতলার মোড়স্থ মৃত হামিদ মাস্টারের ভাড়া বাড়িতে মালিক সমিতির অফিস নিয়ে নিয়মিত এই চাঁদাবাজি করতো।

কোনাবাড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কলিন্দ্র নাথ গোলদার মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দুই কাউন্সিলরকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। মামলা তদন্ত চলছে এর সত্যতা পেলে তাঁদেরকেও মূল আসামি করা হবে।

আরও পড়ুন : কোনাবাড়ীতে ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির ভোট অনুষ্ঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

%d bloggers like this: